নিজস্ব প্রতিবেদক
চায়ের দোকানে বিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাইজউদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার আসামি মনিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন নন্দীপাড়া এলাকায় চায়ের দোকানে বিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাইজউদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার আলোচিত প্রধান আসামি মনির (৩০)’ কে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), এলিট র্ফোস হিসেবে অত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে র্যাবের জোড়ালো তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৬/০২/২০২৫ তারিখ রাত ২১০০ ঘটিকার সময় রাজধানীর খিলগাঁও নন্দীপাড়া এলাকায় চায়ের দোকানে বিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভিকটিম মাইজুদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা সংক্রান্ত একটি ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে তা ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করে। উক্ত বিষয়ে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি র্যাব-৩ এর নজরে আসলে র্যাব-৩ এর গোয়েন্দা টিম কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান সনাক্ত করে র্যাব-৮ এর একটি আভিযানিক দলকে তথ্য প্রদান করে। পরবর্তীতে র্যাব-৩ এর তথ্যর ভিত্তিতে র্যাব-৮ এর একটি আভিযানিক দল বরিশাল বাকেরগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পিটিয়ে হত্যার সাথে জড়িত প্রধান আসামি ১। মনির (৩০), পিতাঃ মালু মিয়া, সাং- নন্দীপাড়া, থানাঃ খিলগাঁও, ডিএমপি, ঢাকাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি জানায়, ভিকটিম চায়ের দোকানে চা ও সিগারেট খাওয়ার জন্য আসলে মাইজুদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে ধৃত মনির গালমন্দ করে। ভিকটিম গালমন্দ করার প্রতিবাদ জানালে ধৃত মনির উত্তেজিত হয়ে দোকানের সামনে স্ব-জোরে মাথা দিয়ে ভিকটিমের মুখমন্ডলে আঘাতসহ এলোপাতারি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে এবং একপর্যায়ে ভিকটিম মাটিতে লুটে পরে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন মুগদা মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিকটিমকে মৃত ঘোষনা করে। হত্যাকান্ডের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশিত হলে গ্রেফতারকৃতরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।